যোগ বিয়োগ

আশি^নের জোছনা রাতে ঘরের কোণে গাড়ি এসে থামে নিশ্চুপ। হর্ণ বাজে না। কিন্তু ইঞ্জিনের শব্দ ছড়ায় ইথারে। আভাস পেয়ে টানা দুয়ার মেলে বুড়ি নামে উঠানে। কেডা… গাড়ি কইরা আইলো কেডা? আমি গো বুড়ি খালা, আমি। গাড়ি থেকে নামতে নামতে বলেন মনির হোসেন। পলকেই বুড়ির চোখের সামনে যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়। কয় কি বেডায়? কওয়া নাই বার্তা নাই এম্নে আইসা হাজির? …

তৃষ্ণা ও জলের কবিতা

‘একদিন হও তুমি খেজুরের গাছ…’ খেজুর গাছ? চিঠি পড়ে মনে মনে হাসি পেল তার। কী যে উপমা! সুদীপ দিন দিন ভালগার হচ্ছে। আজ ফোন করলে আচ্ছামতো বকা দিতে হবে। ইস, সখ কতো! থাকবে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে, আর যখন তখন যা খুশি তা করার ইচ্ছে হবে। বললেই হলো? এতোই যদি সখ তাইলে চলে এলেই পারে। দেখি কেমন তৃষ্ণা তার! …

কৈশোরী

বন্ধ দুচোখে জলের ধারা নেমে এসেছে, কাঁদছে কৈশোরী। জলের ধারায় ভেসে যাচ্ছে গাল, কপোল, গলা বুক । বুকের কাছে জড়ো করে ধরে রাখা, নীল রঙের জামাটা। ফোঁটা ফোঁটা চোখের জলে ভিজে উঠেছে। অদেখা বাবার অদেখা কৈশোরীকে দেওয়া ভালবাসার প্রথম উপহার। শৈশবের লালন করা কত সোনালী স্মৃতির কথকথা আছে চোখের জলে একাকার । ‘‘কৈশোরী – কিশু ‘‘মা আমার” আস্তে আস্তে ডাকে …

চেতনার রঙে

পান্না বসানো আংটিটি শরীফ নিজে পছন্দ করে কিনেছে। কারণ পান্না সবুজ। সবুজ হচ্ছে তারুণ্যের প্রতীক। সজীবতা যারা ভালোবাসে তারা সাহসী হয়। আর সাহসী মানুষ মানেই আপোসকামী নয়। সঠিক সিদ্ধান্তে তারা স্থির থাকে। এসব কিছু মনে রেখেই হবু স্ত্রীর জন্য তার এই পান্না নির্ধারণ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একেবারে কাছে, মুখোমুখি বসে থেকে দেখেও সে রোহিনীকে আংটিটি পরালো না। রোহিনীকে ওর অপছন্দ হয়েছে …

ভালোবাসি তোমাকে

রত্মার সংসারে মানুষ বলতে ওরা দু’জনই। কিন্তু মনে হয় একান্নবর্তী পরিবার। আছে মিঠু, মিতু, তোয়া, তিয়া আর মিয়াউ যাকে মুন্নু বলে ইডাকে। সারাটি দিনই কাজকর্ম ছুটোছুটি লেগেই আছে। ওকে স্নান করানো, তাকে খাওয়ানো, তাদের ঘর পরিস্কার করানো। কাজের আর শেষ নেই। এর মাঝে যখন অবসর পায় রত্মা তখন চলে আড্ডা। ফোনেই চলে দিদি ভাই মানে আলোর সাথে আড্ডা। আলো বয়সে …

জল মাটি মানুষের উপাখ্যান

সে সময় একবার ভয়ার্ত চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদে নতিপোতা গ্রামের মানুষগুলো। রোদ ঝলসানো শুকনো উঠোনে অর্ধউলঙ্গ মানুষের দল ঘড়ার পর ঘড়া উপুড় করে জল ঢালে। সেই জলে নারী-পুরুষের দল গড়াগড়ি খায়। নদী থেকে আনা জল দিয়ে ভিজিয়ে দেয় সবার শরীর। একজন আর একজনের শরীরে কাদার ক্ষীর ছুড়ে দেয়। সমস্বরে জল ভিক্ষা চায় জগতপিতা ঈশ্বরের কাছে। আজও নতিপোতা …